Ananda Sarker
1 comment
13 Mar, 2026
প্রথমে আমাদের সবার জানার প্রয়োজন সনাতন ধর্ম কী? সনাতন শব্দের অর্থ যা অতীতে ছিল, যা বর্তমান আছে, এবং যা ভবিষ্যতেও থাকবে। এবং ধর্ম শব্দের অর্থ হলো ধারণ করা। অর্থ্যাৎ [{আমরা (বহুবচন)} {আমি (একবচন)}] যা ধারণ করে আছি তাই সনাতনধর্ম। এবারে প্রশ্ন হতে পারে আমরা কি ধারণ করে আছি! এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের স্বরূপ সম্পর্কে জানতে হবে। এখানেই সনাতনধর্মের বিশালতা ও আধ্যাত্মিকতা কেননা আমার স্বরূপ কি এই প্রশ্নের উত্তর শুধু হিন্দুদের শাস্ত্রেই আছে বাকি কোন মতাদর্শে নাই। এটা চ্যালেঞ্জ! এবারে জেনে নেন আমাদের স্বরূপ হলো “আমরা আত্মা”। আর এই আত্মার ধর্মই সনাতন। প্রশ্ন হতে পারে তাহলে কি হিন্দু অহিন্দু সবাই সনাতন ধর্মের? উত্তর হলো শুধু হিন্দু অহিন্দুই নয় বরং সমস্ত জীবের ধর্মই সনাতন। ধর্ম এমন একটি বিষয় যা কখনো পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। প্রশ্ন হতে পারে কিভাবে? দেখুন উদাহরণ হিসাবে যদি বলা হয় – বলুন তো জলের ধর্ম কি? উত্তরে আসবে নিচের দিকে গড়িয়ে যাওয়া, এবং তিন অবস্থানে থাকে। আপনি আমি চাইলেও জলের এই ধর্মকে পরিবর্তন করতে পারবো না। আবার যদি উদাহরণ দিই যে আগুনের ধর্ম কি? উত্তরে আসবে তাপ, দাহ ইত্যাদি করা। আপনি আমি চাইলেও এই আগুনের ধর্ম পরিবর্তন করতে পারবো না। তেমনি ভাবেই জীব মাত্রই সনাতন। সেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান অথবা আব্রাহামিক মতামত বলতে কিছু নাই। আর এজন্যই বিশ্বে হিন্দুদের ধর্ম গ্রন্থেই প্রথম পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন – জীবভূতঃ সনাতনঃ[ভগবদগীতা ১৫/৭]।
সনাতন ধর্মের ব্যাক্তি বাচক কোন প্রবর্তক নেই। এই ধর্ম শ্বাশত, অনাদি ধর্ম। এই ধর্মকে সরাসরি ভাবে ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা করা হয় কারণ ঈশ্বর যেমন অনাদি শ্বাশতকাল থেকে বর্তমান তেমনি সনাতনধর্ম অনাদিকাল থেকেই বর্তমান। এজন্য আমাদের ঈশ্বর যেমন সনাতন তেমনি আমাদের ধর্মের নাম সনাতন। নিচে প্রমাণ নেন [অথর্ববেদ -১০/৪/২২,২৩]
অথর্ববেদ সংহিতা [১০/৪/২৩] মন্ত্রটি অনুধাবন করুন। সনাতনমেনমানরুতাদ্য স্যাতপুর্ণবঃ। অহোরাত্রো প্রজায়েতে অন্যো অন্যস্য রূপয়ো।” অনুবাদঃ ঈশ্বরকে সনাতন বলা হয় কারন তিনি সদা নতুন; যেমন দিন ও রাত্রি একে অপরের উপর নির্ভরশীল হয়ে নিত্য নতুন রূপে জন্মগ্রহণ করেও সনাতন। এই বেদ মন্ত্রে ঈশ্বরকে সরাসরি ভাবে সনাতন বলা হয়েছে। এজন্যই এই সনাতনধর্মকে পরমেশ্বর ভগবানের আইন বলা হয়ে থাকে। প্রমাণ শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ ৬/৩/১৯ নং শ্লোক হতে–
এই সত্য সনাতন ধর্ম প্রতক্ষ ভাবে ভগবদ প্রণীত। অর্থ্যাৎ একটি রাষ্ট্র যেমন সেই রাষ্টের সংবিধান মেনে চলে তেমনি ভাবে সনাতনধর্ম কোন ব্যক্তি বিশেষ দ্বারা পরিচালিত নয় এই ধর্ম সরাসরি ভাবে ঈশ্বর প্রণীত ধর্ম। আর এজন্যই আমরা গর্বিত কারণ একমাত্র সনাতনধর্মই ঈশ্বরের আইন তাছাড়া সব মতাদর্শই কোন না কোন ব্যক্তি দ্বারা প্রচারিত হয়েছে।
[এই অংশে বিভিন্ন শাস্ত্র প্রমাণ প্রদর্শনের মাধ্যমে দেখানো হবে আমাদের শাস্ত্রে আমাদের ধর্মের নামটি স্পষ্ট অক্ষরে লেখা রয়েছে। প্রথমে শ্রুতি প্রমাণ দেয়া হবে তারপর স্মৃতিপ্রমাণ এবং এভাবেই পর্যায়ক্রমে ইতিহাস ও পুরাণাদি থেকে প্রমাণ দেখানো হবে।]
ঋগ্বেদে সনাতন ধর্ম-[৩/৩/১],মূল মন্ত্রটিতে “ধর্ম সনাতন” শব্দ চয়নে ফোঁটে উঠেছে। এবং ঋগবেদে মন্ত্র ভাগে স্পষ্ট অক্ষরে সনাতন ধর্মের কথাটি উল্লেখযোগ্য রয়েছে। নিচে প্রমাণ সহ শাস্ত্র দেখুন।
এই মন্ত্রটির অনুবাদ:- মেধাবী স্তোতাবৃন্দ সৎপথ লাভের নিমিত্ত বহুবলশালী বৈশ্বানরের উদ্দেশে যজ্ঞে রমণীয় স্তোত্রসমূহ পাঠ করে। মরণরহিত অগ্নি হব্য প্রদানের দ্বারা দেবতাবৃন্দের পরিচর্যা করেন; অতএব কেউ সনাতন যজ্ঞকে¹ দূষিত করতে পারে না ১॥পর্যবেক্ষণ:-১ সনাতন ধর্মের যজ্ঞকে দূষিত করতে পারে না। অর্থ্যাৎ এই মন্ত্র থেকে আমরা এটাই বুঝতে পারি যে যেখানে এই ধর্মকে দূষিত করাই অসম্ভব সেখানে এই ধর্মকে নষ্টকরাও বালখিল্যতা মাত্র। যেহেতু শ্রুতি প্রমাণই প্রধান ও মুখ্য তাই শ্রুতি প্রমাণই প্রথম দেয়া হলো হলো।
এবারে স্মৃতিশাস্ত্রের শিরোমণি শ্রীমদ্ভাগবদগীতা হতে প্রমাণ। শ্রীমদ্ভবদগীতা স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী জন্য এই জ্ঞানকে ব্রহ্মজ্ঞান বলা হয়ে থাকে।শ্রীমদ্ভগবদগীতা-[১১/১৮]
মনুস্মৃতির ৪/১৩৮ নাম্বার শ্লোকেও স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে বেদোপদিষ্ট ধর্মই সনাতন ধর্ম সুতরাং যারা দাবি করে হিন্দুদের শাস্ত্রে তাঁদের ধর্মের নাম নাই । তাঁরা মূলতো অশিক্ষিত। নিচে আরো একটি স্মৃতিপ্রমাণ
পরাশর স্মৃতির ২/১৬ নাম্বার শ্লোকে বলা হয়েছে ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্র এই চারি বর্ণের ধর্মই সনাতন ধর্ম।
এবারে ইতিহাস শাস্ত্রাদি থেকে প্রমাণ। প্রথমেই রামায়ণ হতে [রামায়ণ, অযোধ্যাকাণ্ড ২৪/১৩]
আরো দেখুন
Ananda Sarker
1 comment
Basudeb Majumder
13 Mar, 2026 at 09:39 AM
"ome"sante